মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম হত্যার ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-এর হস্তক্ষেপে হত্যা মামলা গ্রহন করেন বোয়ালমারী থানা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে মঙ্গলবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলামকে একই গ্রামের শাহিদুল তার জামাই বাড়ি হাটখোলারচর বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জামাই ও শ্বশুরের মধ্যে পূর্বের বিরোধের জেরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা রবিউল ওই বিরোধের কারণে হত্যার শিকার হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে একটি প্রাইভেটকারে গুম করার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
নিহতের পিতা ছারোয়ার হোসেন ওরফে ছোরন অভিযোগ করে বলেন,
“আমার ছেলে রবিউলকে মোটরসাইকেল আনার কথা বলে হাটখোলারচর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে আমরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ এটি দুর্ঘটনা মামলা হিসেবে নিতে চায়।”
পরিবারের সদস্যরা পরে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-এর কাছে গেলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এসপি ও বোয়ালমারী থানার ওসিকে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর গত রোববার বোয়ালমারী থানায় নিহত রবিউলের পিতা মো: ছানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা 











